কেন আপনি লেখালেখি করা উচিৎ?
আজ থেকে ১০ বছর আগে ফটোশপ টেমপ্লেট থেকে এইচটিএমএল কোড করার একটা কাজের অনেক চাহিদা ছিল, কিন্তু আজ তার বিশাল একটা অংশ অটোমেটিক বিভিন্ন সফটওয়্যার করে দিচ্ছে। যারা ওসব কাজ করতো, তারা বাধ্য হয়েছে অন্য কাজগুলোকে হাতে নিয়ে নিতে। যতক্ষণ না কোন একটা কাজে ক্রিয়েটিভিটি প্রয়োজন হচ্ছে, ততক্ষণ ওই কাজটা হয় অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে, অথবা কাজটা করার মত মানুষ কমে যাচ্ছে।
আজ থেকে ২০ বছর আগে যে চাকরি ছিল, তার মধ্যে অনেক চাকরিই ১০ বছরে হাওয়ায় মিটিয়ে গিয়েছে। আবার ১০ বছর আগের অনেক চাকরি বা ব্যবসা এখন আর নেই। টেকনোলোজির মধ্যে আগামী ১০ বছর আজকের সব চাকরি বা ব্যবসা না থাকার সম্ভাবনা ব্যাপক। শারিরীক বা মানসিক পরিশ্রম করা হয় এমন অনেক চাকরি কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।
আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে যখন আমি পিচ্চি ছিলাম, তখন আমিও সবার মত অনেক রকম স্কিল তৈরি করছিলাম। ফ্রিল্যান্সিং, ডাটা এন্ট্রি, পিটিসি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ফরেক্স, ফেসবুক এডস, ক্রেইগসলিস্ট মার্কেটিং, এসইও, ইকমার্স, সহ অগনিত বিষয়ে স্কিল তৈরি করতে পাগল ছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে বারবার ফেইল করার পর কয়েকটা ব্যাপার খুব ভালোভাবে ক্লিয়ার হয়ে গেল আমার সামনে।
মানুষ আদিকাল থেকেই লিখে মনের ভাব প্রকাশ করে
আপনিই চিন্তা করেন। আপনার ক্লায়েন্ট খোঁজার প্রপোজাল বলেন অথবা কাস্টমারের সাথে কথা বলা বলেন, বা যাই বলেন। সব রকম কমিউনিকেশনের শুরুটা প্রায় লিখেই হয়। কম্পিউটারের সাথে কথা বলতে কোড লিখবেন? সেটাও লিখেই হয়, কম্পিউটারের ভাষায়। পুরা ইন্টারনেটের দামি সবকিছুই লিখিত আকারে হয়।
- টুইটারের একটা টুইট? লিখিত।
- ফেসবুকের একটা পোস্ট? লিখিত।
- মিডিয়ামের একটা ব্লগ? লিখিত।
- আপনার প্রজেক্টের কোড? লিখিত।
- বড় প্রজেক্টের ডকুমেন্টেশন? লিখিত।
- ইউটিউবের ভিডিও? বেশিরভাগ সময় লিখিত স্ক্রিপ্ট।
- ইনস্টাগ্রামের একটা পোস্ট? ক্যাপশন লিখিত, কোটেশন লিখিত।
- সব রকম বিজ্ঞাপন? সেটার স্ক্রিপ্টও বেশিরভাগ সময় লিখিত।
এভাবে সব চিন্তা করে দেখেন। সৃষ্টির শুরু থেকেই আপনার মনের ভাব মুখে প্রকাশ করতে লজ্জা পেলেও, চেহারা দেখাতে সমস্যা হলেও, লিখিত অবস্থায় এমন অনেক কিছু সম্ভব যা অন্য কোন মাধ্যমে সম্ভব না।
আপনার পটেনশিয়াল ক্লায়েন্ট, কাস্টমার সহ সবাই অনলাইনে আছে
রেসুমে বা সিভি সিস্টেম হবার পর থেকে ক্লায়েন্টদের আফসোসের শুরু হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বাজে বাজে রেসুমের উপর দিয়ে যাবার পর থেকে উনারা সব বাদ দিয়ে পাবলিক রেসুমে, ব্লগ পোস্ট, বা অন্য কোন কন্ট্রিবিউশনের দিকে হাত দিচ্ছেন। পটেনশিয়ালি কাউকে হায়ার করতে অন্য কাউকে বিভিন্ন মাধ্যমে মেসেজ করতেসেন।
একটা ভালো রেজুমে লিখতে গেলেও মোটামুটি লেখালেখির একটা স্কিল থাকা লাগে। একটা ব্লগ পোস্ট বা টুইটারের টুইট, গিটহাবের ইস্যু, স্টাকঅভারফ্লোর রিপ্লাই দিয়ে কাস্টামারের মন জয় করতে গেলেও লিখতে হয়। সামান্য একটা ছোট লেখা দিয়ে এমন সব কাস্টমার পাওয়া যায় যা মুখে মুখে কথা বলে পাওয়া অনেক কঠিন।
আপনি যাদেরকে ফলো করেন, একটা বিশাল চান্স আছে আপনাকে তাদের মত করে লিখতে দিলে একটু হলেও লিখতে পারবেন।
ক্রিয়েটিভরাই ভবিষ্যত গড়ে
ক্রিয়েটিভিটি মানেই যে ডিজাইন আর ডেভেলপমেন্ট, তা না। ডিজাইন আর ডেভেলপমেন্ট এর মত ক্রিয়েটিভ ব্যাপারগুলো ট্রেইন করে করে লেবারে পরিণত করা যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ প্রডিউস করা যায়। কিন্তু আসল ক্রিয়েটিভিটি হলো একটা সমস্যা সমাধান করা, একটা ইন্টারেস্টের বহিঃপ্রকাশ, একটা চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ, যার প্রতিটাই একেক মানুষ একেকভাবে করে থাকে। আপনার যদি এই সমস্যা সমাধান করা সিস্টেম বের করা আর সেটা মানুষকে বোঝানোর ক্ষমতা থাকে, তাহলেই ভবিষ্যতে টিকে যেতে পারবেন।
একেকটা বড় বড় মানুষের টুইট বা ব্লগ পোস্টের দিকে তাকান।
Stop tweeting 0.1 + 0.2 = 0.30000000000000004
— Wes Bos (@wesbos) November 22, 2022
window.location = `https://${0.1 + 0.2}.com` pic.twitter.com/EoTkWnV9zb
দেখেন এই ক্রিয়েটিভ মানুষগুলো কি করছে। একটু চিন্তা করলেই কয়েকটা বিষয় ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
- উনারা লেখালেখি করে একটা সমস্যার সমাধান করছে, মানুষকে শেখাচ্ছে, নিজেদের মনের ইউনিক চিন্তাভাবনাগুলো সবাইকে জানান দিচ্ছে।
- নিজে মানুষকে শেখাচ্ছে, এবং অন্যদেরকেও শেখানোর মত মহৎ কাজে উৎসাহ দিচ্ছে।
- নিজের ভিতরের সত্ত্বা ও ব্যক্তিত্বকে আরো ভালোভাবে বুঝতে ও বোঝাতে পারছে।
আমাকে যদি আমি আরো ১০ বছর আগে ফেরত গিয়ে একটা স্কিল আরো বাড়াতে বলতে চাই, তাহলে গিয়ে বলবো আরো বেশি করে লেখালেখি করা দরকার ছিল, রিসোর্স তৈরি করা দরকার ছিল, মানুষকে মনের ভাব প্রকাশ করা দরকার ছিল।
আপনি যদি নিজের ক্রিয়েটিভিটি আরো বাড়াতে চান, ভবিষ্যতের দিকে যেতে চান, নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে চান, তাহলে আপনার উচিৎ হবে লেখালেখি শুরু করা।
সবার মনের ভাব লিখিত ভাবে প্রকাশ করা সহজ নাও হতে পারে। কিন্তু কোন না কোন ভাবে নিজেকে এগিয়ে রাখতে চাইলে ডায়েরি, নোটবুক, খাতা, ব্লগ, স্ক্রিপ্ট, কাগজ, বা যেখানে পারেন, লেখার মাধ্যমেই আপনার স্কিল অনেক এগিয়ে নিতে পারবেন।
কেউ যদি বলে আগামী ১০ বছরের জন্য নিজেকে কিভাবে প্রিপেয়ার করতে হবে। আমি বলবো আপনি লেখালেখির স্কিল তৈরি করুন। যে রকম কোয়ালিটির হউক না কেন, যত লজ্জাই লাগুক না কেন, যে প্লাটফর্মেই হউক না কেন, শুরু করে দিন। আমিও অতটা প্রফেশনাল লেখক না। প্রচুর ভুল করি। কিন্তু তারপরেও লেখি।
তাই, আমি মনে করি সবার লেখালেখি করা উচিৎ। যদি আপনি আমার সাথে দ্বিমত পোষন করেন, তাহলে লিখে জানান।
Member discussion